Monday, March 16, 2015

প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলাম

১৯৮৪ সালে সোয়া লাখ টাকা বেতনের চাকুরী, কেমব্রিজ ভার্সিটির অধ্যাপক, সম্মানের মাত্রাটা বুঝতে পারছেন তো ?
এই চাকুরী অবলীলায় পেছনে রেখে দিয়ে এইদেশে চলে এসেছিলেন। যোগ দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়য়ে, মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকার চাকুরীতে। ভাবতে পারছেন? আপনি কিংবা আমি হলে এই লোভনীয় সুযোগ হাতছাড়া করতে পারতাম?
কেন ফিরে এসেছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, আমার বাড়ি চিটাগং, এ জন্য এখানে জয়েন করি। আমি আমার দেশকে ভালোবাসি,আমি এখান থেকে নিতে আসিনি আমি দিতে এসেছি’।
স্টিফেন হকিংস এর নাম নিশ্চয়ই শুনেছেন ? বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা জীবিত বিজ্ঞানী। যার চরিত্রের উপর তৈরি করা সিনেমা থিওরি অব এভ্রিথিং সমগ্র বিশ্বে সাড়া ফেলেছে। এই মানুষটা ছিলেন ছাত্র জীবনে স্টিফেন হকিংস এর বন্ধু আর রুমমেট। মর্যাদার স্তরটা বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই ?
১৯৮৩ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস থেকে প্রকাশ করেন আল্টিমেট ফেইট অব দা ইউনিভার্স। তাবৎ দুনিয়ার রথি মহারথীদের দৃষ্টি একদিকে নিয়ে আসতে পেরেছিলেন এক বই দিয়ে।
তার গবেষণার উপর ভিত্তি করেই পদার্থবিজ্ঞানের নতুন অধ্যায়ের সুচনা হয়। তার অবদানের কথা অকপটে স্বীকার করেন নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী ওয়েইনবারগ। তিনি বলেন, ‘‘we are particularly indebted to Jamal Islam, a physicist colleague now living in Bangladesh. For an early draft of his 1977 paper which started us thinking about the remote future”
ভাবতে পারছেন? কি বড় মাপের মানুষ ছিলেন তিনি?
নোবেল জয়ী বিজ্ঞানী আব্দুস সালাম বলেছিলেন, এশিয়ার মধ্যে আমার পরে যদি দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি নোবেল পুরস্কার পায়, তবে সে হবে প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলাম’
এই মানুষটার মৃত্যুবার্ষিকী আজকে। নেই কোন স্মরণ, নেই তার কাজের উপর আলোচনা।
আমরা পারিও বটে।
যে জাতি জ্ঞানীদের সম্মান দিতে জানে না, সেই জাতি খুব দ্রুতই নিশ্চিহ হয়ে যায়।
ও হ্যাঁ, এই মানুষটাই কিন্তু সর্বপ্রথম ১৯৭১ সালে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে বাংলাদেশে পাকিস্তানী বাহিনীর আক্রমণ বন্ধের উদ্যোগ নিতে বলেছিলেন।
ভাল থাকবেন স্যার, পারলে আমাদের ক্ষমা করে দিয়েন।

Courtesy: Mohammad Tuhin Ali

Thursday, February 12, 2015

Nafees Bin Zafar, the first Bangladeshi to win an Oscar

Nafees Bin Zafar, the first Bangladeshi to win an Oscar, has received another Academy Award for his contribution to the movie industry! 
Proud of you Nafees!



ডাঃ জোবায়দা রহমান

আমাদের জোবায়দা রহমানঃ
কথায় বলে, “যে দেশে গুণীর কদর নেই, সে দেশে গুণী জন্মায় না”। বলাবাহুল্য, বাংলাদেশ বর্তমানে এর প্রকৃষ্ঠ উদাহরণ।
ডাঃ জোবায়দা রহমান কে আমরা অনেকেই শুধু চিনি সাবেক প্র্রধানমন্ত্রীর পুত্রবধু কিংবা নৌবাহিনীপ্রধান মরহুম রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কন্যা হিসাবে। এ পরিচয়ের কারণে অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়েও তিনি হয়েছেন রাজনৈতিক হয়রানির শিকার। কিন্তু এর বাইরে ডাঃ জোবায়দা রহমান এর পরিচয় আছে যে পরিচয়ে তিনি আপন মহিমায় ভাস্বর, আপন বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল।
ডাঃ জোবায়দা রহমান শিক্ষা জীবনে কখনো দ্বিতীয় হন নি - না দেশে না বিদেশে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ এর ইতিহাসে ডিস্টিংশনসহ সর্বোচ্চ মার্কস পেয়ে এমবিবিএস পাশ করেছিলেন ডাঃ জোবায়দা। অত্যন্ত লোভনীয় স্কলারশিপ ও উজ্জ্বল ক্যারিয়ার এর হাতছানি সত্ত্বেও অন্য দিকে না গিয়ে মানব সেবার মহান ব্রত নিয়ে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারী চাকুরিতেই ডাক্তার হিসাবে যোগদান করেছিলেন তিনি ১৯৯৫ সালে।
জোবাইদা রহমানকে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরির অফার দেওয়া হয়েছে। তাকে সেখানে প্রফেসর হিসাবে যোগ দিতে বলা হয় গত বছর। ওই সময়ে তিনি ওই বিশ্বদ্যিালয় থেকে পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। সেখানে তিনি সব বিষয়ে ডিসটিংসন পেয়ে পাস করেন। তিনি ৫৩টি দেশের মধ্যে প্রথম হন। ওই সময় তাকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিতে যোগদানের অফার দিলেও তিনি দেশে ফিরে আসবেন এই আশায় বিদেশি কোনো চাকরিতে যোগ দেননি।
এ বিশ্ববিদ্যালয় হতেই পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রি লাভ করেন ডাঃ জোবায়দা ও ৫৩টি দেশের ছাত্রছাত্রীর মধ্যে প্রথম হন। কমনওয়েলথেও প্রথম হন। এরপর তাকে প্রফেসর হওয়ার জন্য অফার দেওয়া হয়। তিনি সেটা গ্রহণ করেননি। তার মেধা তিনি দেশের কাজে লাগাতে চান। এই কারণে বিদেশে পড়ালেখা করলেও চাকরি করেননি।
এমন একজন মেধাবীকে সরকারী চাকুরী হতে বরখাস্ত করা হল স্রেফ রাজনৈতিক আক্রোশের কারণে। আইন না মেনেই এ চাকুরীচ্যূতি। এমনকি ডাঃ জোবায়দাকে এ বিষয়ে কোনো চিঠিও ইস্যূ করা হয় নি নিয়মানুযায়ী।
সংসদে কোনো সরকারী কর্মকর্তার চাকুরীচ্যূতির খবর ঘোষণা করার মত অভিনব ও হাস্যকর ঘটনা ইতোপূর্বে ঘটে নি, ডাঃ জোবায়দার ক্ষেত্রে সেটা ঘটেছে। এটি স্রেফ বিদ্বেষপ্রসূত ও ডাঃ জোবায়দার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্মান হানির অপউদ্দেশ্যে করা হয়েছে-তা বলাই বাহুল্য। এ ঘৃণ্য কাজের ধিক্কার জানানোর ভাষা নেই।


source:
যেড ফোর্স আন্দোলন সেল Z-Force Andolon Cell